ঘরে বসে অনলাইনে ইনকাম করার ১৫টি উপায়
ঘরে বসে অনলাইনে ইনকাম করার ১৫টি উপায়। বর্তমানে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে অনলাইনে উপার্জন করা বেশ সহজ হয়ে গেছে। বিশেষ কোনো ডিগ্রি বা দক্ষতা ছাড়াও আপনিও ঘরে বসে অনলাইন এর মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন।
এ ছাড়াও কিছু অনলাইন প্লাটফর্ম, ওয়েবসাইট রিসোর্স আছে যা কাজে লাগিয়ে আপনি আয় করতে পারবেন। আজকে আমরা আলোচনা করবো অনলাইনে কোন ১৫ টি উপায়ে ঘরে বসে ইনকাম করা যায় সে সম্পর্কে।
পেজ সূচিপত্রঃ ঘরে বসে অনলাইনে ইনকাম করা ১৫টি উপায়
- ঘরে বসে অনলাইনে ইনকাম করার উপায়
- ঘরে বসে ব্লগিং করে আয়
- ঘরে বসে ইউটিউব থেকে আয়
- কন্টেন্ট রাইটিং /আর্টিকেল লিখে আয়
- ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে আয় করুন
- ঘরে বসে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়
- ঘরে বসে গুগল এডসেন্স থেকে আয়
- মার্কেটপ্লেসে ফ্রিল্যান্সিং করে আয়
- গ্রাফিকস ডিজাইন করে অনলাইনে আয় করুন
- সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে আয়
- ওয়েবসাইট বিক্রি করে আয় করুন
- ডিজিটাল কোর্স সেল করে আয়
- ফেসবুক থেকে ইনকাম
- অ্যামাজনে বই বিক্রি করে আয়
- অনলাইন সার্ভে থেকে ইনকাম
- ডাটা এন্ট্রি করে টাকা ইনকাম
- উপসংহারঃ ঘরে বসে অনলাইনে ইনকাম করার ১৫টি উপায়
ঘরে বসে অনলাইনে ইনকাম করার উপায়
বর্তমানে ইন্টারনেট মানুষের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে
আমরা আজ অনেক এগিয়ে। মানুষ এখন অনলাইনে অর্থ আয়ের জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছে।
অনলাইনে আয় করার নানা পথ ও তৈরি হয়েছে ।
মূলত তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষ যে ধরনের আয় করার ক্ষেত্র তৈরি করছে
তাকেই আমরা অনলাইন ইনকাম নামে চিনি। এর মধ্যে রয়েছে একটি ওয়েবসাইটের মালিকানা,
একটি অনলাইন ব্যবসা শুরু করা ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত অনলাইন উপার্জনের অন্যান্য
বিকল্প রাস্তা বেছে নেওয়া। অনলাইনে আয় করা সুবিধাজনক। কারন এর জন্য কোন
বিনিয়োগ বা সঠিক সময় নির্ধারণের প্রয়োজন হয়না।
অনলাইনে ঘরে বসে ইনকাম করার অনেক উপায় রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে
জনপ্রিয় ও কার্যকর উপায় নিয়ে আজ আলোচনা করব। চলুন আজ জেনে নেওয়া
যাক অনলাইনে ঘরে বসে ইনকাম করার ১৫ টি অন্যতম উপায় সমূহ।
ঘরে বসে ব্লগিং করে আয়
ঘরে বসে আয় করার আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ব্লগিং। এর জন্য প্রাথমিকভাবে আপনার ব্লগ সাইট তৈরি করতে হবে। বিভিন্ন রকম ফ্রী ব্লগ সাইট রয়েছে যাতে আপনি আপনার ব্লগ চালু করতে পারেন। কিংবা আপনি আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও ব্লগিং শুরু করতে পারেন। কিছু টাকা ব্যয় করে ডোমেন-হোস্টিং কিনেও ব্লগিং করা যায়। ব্লগে লেখালেখি তথা বিভিন্ন আর্টিকেল লিখে পাবলিশ করা হয়ে থাকে।
পরবর্তীতে যখন অধিক সংখ্যক লোক আপনার ব্লগ সাইট ভিজিট করবে তখন গুগল এডসেন্সের
জন্য আবেদন করবেন। তখন গুগলের দেয়া বিজ্ঞাপনে ক্লিক থেকে আপনি অনায়াসে আয় করতে
পারবেন।এভাবে আপনি একটি ব্লগ সাইট তৈরি করে ইনকাম করতে পারবেন। তবে ব্লগিং
একটি ধৈর্যের ব্যাপার। ব্লগ করে কেউ রাতারাতি বড়লোক হতে পারে না। এজন্য প্রচুর
সময় ও ধৈর্য থাকতে হবে। অনেকের ইনকাম আসতে অনেক বছর সময় লেগে গেছে। ব্লগে
নিয়মিত কনটেন্ট আপডেটসহ সক্রিয় থাকতে হবে।
ঘরে বসে ইউটিউব থেকে আয়
যারা ব্লগিং বা লেখালেখি করতে পছন্দ করেন না তারা ক্যামেরার সাহায্য নিয়ে ভিডিও তৈরি করে আয় শুরু করতে পারেন। বর্তমান সময়ে ঘরে বসে আয় করার অন্যতম মাধ্যম হলো ইউটিউব। নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলে তাতে মানসম্মত ভিডিও বানিয়ে আপলোড দিবেন। আপনার চ্যানেল কোন ক্যাটাগরির এবং তাতে কোন ধরনের ভিডিও রাখবেন , তা আগে থেকেই ঠিক করে নিবেন।
আরো পড়ুনঃ ঘরে বসে অ্যাসাইনমেন্ট লিখে ইনকাম করার উপায়
অবশ্যই মানুষের চাহিদা অনুযায়ী আপনাকে ভিডিও বানাতে হবে। যে বিষয়ে মানুষের
আগ্রহ বেশি সে বিষয়ে ভিডিও বানাতে হবে, তা না হলে আপনার ভিডিওতে ভিউ হবে না আর
ভিউ না হলে ইনকাম ও করতে পারবেন নাহ। ইউটিউব থেকে ইনকাম আসে চ্যানেলে
সাবস্ক্রাইবার, ভিউয়ার ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। এগুলো যত বেশি থাকবে ততো
বেশি আপনার ইনকাম বাড়বে। তাই ঘরে বসে ইনকাম করার অন্যতম মাধ্যম হলো ইউটিউব।
বর্তমানে বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ইউটিউব থেকে আয় করা।
কন্টেন্ট রাইটিং /আর্টিকেল লিখে আয়
বর্তমান সময়ে অনলাইন সেক্টরে প্রচুর কন্টেন্ট রাইটার এর চাহিদা রয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে যারা আয় করতে আগ্রহী তারা ওয়েবসাইট অথবা পণ্য সম্পর্কে নানা কন্টেন্ট বানিয়ে থাকে। তাই ঘরে বসে আপনি কন্টেন্ট লেখার মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। যারা লেখালেখিতে ভালো এবং একাধিক ভাষায় সাবলীল লিখতে পড়তে পারেন, তাদের কাজের জন্য বসে থাকতে হয় না। অনলাইন প্লাটফর্ম গুলোতে কাজ করে বা লিখে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।
আর্টিকেল লেখার মানের ওপর ভিত্তি করে আয় আসে। কাজ দাতা নির্দিষ্ট নীতি মেনে লেখার জন্য বলতে পারেন। আপনার লেখার মান অনুযায়ী আপনি কন্টেন্ট এর দাম নির্ধারণ করতে পারবেন। তাই অল্প সময়ে অধিক আয় করার সুযোগ রয়েছে শুধুমাত্র কন্টেন্ট রাইটিং এর মাধ্যমে। পাশাপাশি আপনি যদি কোন সাইট বানিয়ে আয় করতে চান তখন আপনাকে আর টাকা দিয়ে কন্টেন্ট রাইটার নিয়োগ দিতে হবে না বরং আপনি নিজেই নিজের সাইটের কন্টেন্ট তৈরি করতে পারবেন।
ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে আয় করুন
অনলাইন ইনকামের অন্যতম একটি মাধ্যম হলো ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে আয়। আপনি যদি
ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট হতে পারেন তবে আপনি মাসে অনেক টাকা ইনকাম করতে
পারবেন। এখানে যেকোনো একটি বা একাধিক সেক্টরের ওপর কাজ শিখে আপনি নিজেকে একজন সফল
ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর
জনপ্রিয়তা সবার শীর্ষে।
এছাড়াও বর্তমান সময়ে মার্কেটিং সেক্টরে বিশাল একটি স্থান দখল করে রয়েছে এই ডিজিটাল মার্কেটিং। অনলাইন বিজনেস বলেন আর অফলাইন বিজনেস বলেন এখন বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি গুলো তাদের পণ্যের মার্কেটিং এর জন্য ডিজিটাল প্লাটফর্ম কে বেছে নিয়েছে মার্কেটিং এর জন্য।সুতরাং বুঝতেই পারছেন ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভবিষ্যৎ কেমন।
ডিজিটাল মার্কেটিং এ ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আপনার সাধারণত মার্কেটিং নীতি এবং
ডিজিটাল টুলস এবং প্ল্যাটফর্ম গুলিকে কার্যকর ভাবে ব্যবহার করার ক্ষমতা সম্পর্কে
দীর্ঘ ধারণা থাকতে হবে। তবেই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে ভালো আয় করা সম্ভব।
ঘরে বসে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়
এই পদ্ধতিতে আয়ের ক্ষেত্রেও নিজের ওয়েব পেজ বা ব্লগ প্রয়োজন। যখন ওয়েবসাইট বা ব্লগ চালু হবে, তখন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লিংক তাতে যুক্ত করতে পারবেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো আপনার ওয়েবসাইটে অন্যের প্রোডাক্ট প্রচারের মাধ্যমে বিক্রি করা। যার মাধ্যমে আপনি বিকৃত প্রোডাক্টের দাম থেকে নির্ধারিত হারে কমিশন পাবেন।
আপনার ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে যত বেশি প্রোডাক্ট বিক্রি হবে তত বেশি আয় হবে আপনার। এর জন্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে অ্যামাজন। তাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আপনি ও ঘরে বসে ইনকাম করুন।
ঘরে বসে গুগল এডসেন্স থেকে আয়
ঘরে বসে আয় করার অন্যতম উপায় হল গুগল এডসেন্স। গুগল এডসেন্স হচ্ছে, গুগল এর একটি অনলাইন প্লাটফর্ম বা প্রোগ্রাম যা ব্যবহার করে, একজন কন্টেন্ট পাবলিশান নিজের অনলাইন কন্টাইন থেকে টাকা ইনকাম করার দুর্দান্ত সুযোগ পেয়ে থাকে। গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখানো হবে। ব্যবহারকারীরা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে আপনি গুগল থেকে টাকা পাবেন। যত বেশি ভিজিটর আসবে তত বেশি আপনার ইনকাম বাড়বে।
আরো পড়ুনঃ ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কতো দিন সময় লাগে
অনলাইনে ঘরে বসে ইনকাম করার সবচেয়ে নিরাপদ ও সহজ হলো গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে টাকা আয় করা। আপনি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে থাকেন না কেন নিয়মিত আপনার সাইটে ভিজিটর বাড়ানোর মাধ্যমে আপনার আয় বৃদ্ধি করতে পারবেন।
মার্কেটপ্লেসে ফ্রিল্যান্সিং করে আয়
ঘরে বসে আয় করার জন্য প্রথমে আপনাকে ঘরে বসে কোন ধরনের সার্ভিস প্রদান করা যায় তা জানতে হবে কোথায় আপনি সার্ভিস প্রদান করে আয় করতে পারবেন । ঘরে বসে আয় করার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। যা অনলাইন মার্কেটপ্লেস এর মাধ্যমে হয়ে থাকে। অনলাইন ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস এ কাজের কোন শেষ নেই। আপনি যদি মার্কেটপ্লেসে একটু সময় নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন তাহলে দেখতে পারবেন সেখানে অনেক ধরনের কাজ রয়েছে।যেমন;
- ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
- ওয়েব ডিজাইনার
- অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট
- অ্যাপ মার্কেটিং
- ডিজিটাল মার্কেটিং
- গ্রাফিক্স ডিজাইন
- ভিডিও এডিটিং এন্ড অ্যানিমেশন
- ডাটা এন্ট্রি
- সার্চ ইঞ্জিল অপটিমাইজেশন
- কন্টেন্ট রাইটিং
- ফেসবুক মার্কেটিং
- ইমেল মার্কেটিং
- Google ads
এছাড়াও মার্কেটপ্লেসে আরো অনেক কাজের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব মার্কেটপ্লেসে আপনি ঘন্টা হিসেবে অথবা গীগ সার্ভিস প্রদানের মাধ্যমে আপনার কাজের দাম নির্ধারণ করতে পারেন। যে কোন প্রজেক্ট অথবা গিগে বর্ণিত সার্ভিস প্রদানের পর যদি কাজের অনুমোদন দেই তবে আপনি আই নিশ্চিত করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং এর পুরো সার্ভিস আপনি ঘরে বসে দিতে পারবেন।
গ্রাফিকস ডিজাইন করে অনলাইনে আয় করুন
অনলাইনে ঘরে বসে ইনকাম করার আরেকটি উপায় হল গ্রাফিকস ডিজাইন। গ্রাফিকস ডিজাইন শিখে আপনিও মার্কেটপ্লেস থেকে আয় করতে পারবেন। গ্রাফি্কস ডিজাইনের মাধ্যমে আয় করার জন্য এ কাজে দক্ষ হতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য লোগো , ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন তৈরি করতে হয়। আপনি এ কাজগুলো অনলাইনের মাধ্যমে করতে পারবেন।
তাছাড়া ও বর্তমানে ফেসবুক ও ইউটিউবের ভিডিওর জন্য থাম্বেইনেইলের প্রয়োজন হয়।
যা আপনি ঘরে বসে অনলাইনে করতে পারবেন। বর্তমানে গ্রাফিকস ডিজাইনের চাহিদা ব্যাপক।
প্রয়োজন শুধু দক্ষ মানুষের। তাই আপনি যদি গ্রাফিকস ডিজাইনে ভালো
দক্ষ্তা অর্জন করতে পারেন তাহলে মার্কেটপ্লেসে আপনি ভাল কাজ করে আয় করতে
পারবেন।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে আয়
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয়ের নানান উপায় রয়েছে। ফেসবুক, টুইটার, পিন্টারেস্ট , ইন্সট্রাগ্রাম, লিংকডিন ইত্যাদির মাধ্যমে আয় করা যাচ্ছে। আর সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর কাজ ঘরে বসে করা যায়। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে নানাভাবে মার্কেটিং করা যায়। আপনার পেজের ফলোয়ার যদি বেশি হয় তাহলে আপনি যে কোন কোম্পানির পণ্যের প্রচারণার মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারবেন।
আরো পড়ুনঃবাংলা আর্টিকেল লিখে টাকা ইনকাম করার সাইট
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর সবচেয়ে অন্যতম মাধ্যম হলো ফেসবুক। আপনি যদি চান শুধু ফেসবুক মার্কেটিং করেই ঘরে বসে অনলাইনে ইনকাম শুরু করে দিতে পারেন। এ ছাড়াও আপনি পেজ বিক্রি করে আয় করতে পারেন। বাংলাদেশে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তা শীর্ষে। এক দিকে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে আপনি আয় করতে পারবেন অপরদিকে আপনি পরিচিতি লাভ করতে পারবেন।
ওয়েবসাইট বিক্রি করে আয় করুন
অনলাইন ইনকাম করার অন্যতম মাধ্যম হলো ওয়েবসাইট তৈরি করে বিক্রি করে আয়। এটা খুবই লাভজনক একটি মাধ্যম। আপনি চাইলে ওয়েবসাইট বানানো কাজ শিখে মোটামুটি মানের একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে সেটি বিক্রি করে অনলাইনে ইনকাম করতে পারেন। এজন্য আপনাকে শুধু একটি ডোমেন এবং হোস্টিং কিনতে হবে।
এজন্য অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইট সম্বন্ধে ধারণা থাকতে হবে। একটি ওয়েবসাইটে সুন্দর মত একটি থিম বসিয়ে কাস্টমাইজ করে কিছু আর্টিকেল লিখে পাবলিশ করে সেটি মনিটাইজ করে বিক্রি করতে পারেন। এখন এডসেন্স অ্যাপ্রুভ ওয়েবসাইটের দাম প্রায় ১২ থেকে ২৫ হাজার টাকার মতো। তাই আপনি চাইলেই অনলাইনে ইনকাম করার জন্য এই পদ্ধতিটি অবলম্বন করতে পারেন। ট্রাফিক কোয়ালিটি ভেদে এডসেন্স ওয়েবসাইটের দামে বিভিন্ন তারতম্য দেখা যায়।
ডিজিটাল কোর্স সেল করে আয়
আপনি যদি কোন একটি বিষয়ে ভাল দক্ষতা অর্জন করে থাকেন যেমন গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটিং তাহলে সেই দক্ষতা থেকে আপনি যেমন ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন, অনলাইন কোর্স বানিয়ে সেল করতে পারবেন, ব্লগারদের ভিডিও এডিটিং এর কাজ করে আয় করতে পারবেন। এমনকি আপনি চাইলে ওয়ার্ডপ্রেসে সাইট বানিয়ে নিজের কোর্সগুলি সেল করতে পারবেন।
তবে ওয়ার্ডপ্রেসে যেই সব ট্রপিক নিয়ে কোর্স পাবলিশ করতে চান, সেই
ব্যাপারে আপনাকে দক্ষ হতে হবে এবং অন্যকে শিখানোর দক্ষতা থাকলে হবে। অনেকে এমন
রয়েছে যারা নিজেরা ভালো বোঝে ভালো কাজ করতে পারে কিন্তু অন্যকে সে বিষয়ে শেখাতে
পারে না বা বোঝাতে পারেনা। মনে রাখতে হবে নিজে জানা আর অন্যকে সে বিষয়ে বোঝানো
কখনোই এক জিনিস নয়। তাই অবশ্যই আপনাকে অন্যকে বোঝানোর মত দক্ষতা থাকা
লাগবে।
ফেসবুক থেকে ইনকাম
বর্তমানে ইউটিউবের চ্যানেল খুলে মনিটাইজেশন এর মাধ্যমে ভিডিও আপলোড করে মাসে লক্ষ
লক্ষ টাকা ইনকাম করছে। আপনি চাইলে ফেসবুকে একটি পেজ খুলে ভিডিও আপলোড করে টাকা
ইনকাম করতে পারবেন। কিন্তু পেজে শুধু ভিডিও আপলোড দিলেই তো আর টাকা ইনকাম হবে না
তার জন্য আপনাকে ফেসবুকের কিছু নিয়ম-নীতি রয়েছে । আপনার পেজে সেই নিয়ম
নীতিগুলো মেনে কাজ করতে হবে। তাহলে ফেসবুক থেকে আপনাকে মনিটাইজেশন
দেবে এবং আপনার ভিডিওতে করানোর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
এছাড়াও আপনার পেজে যদি অনেক লাইক ফলোয়ার থাকে তাহলে অনেক বড় বড় কোম্পানির
পণ্য আপনার পেইজে স্পন্সর করার মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। এছাড়াও বড় বড়
কোম্পানির প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কিংবা এজেন্সি পরিচালনা করার মাধ্যমে আপনি ইনকাম
করতে পারবেন। বিভিন্ন ধরনের প্রমোট ভিডিওগুলো বানিয়েও ইনকাম করা যায় ফেসবুক
থেকে খুব সহজে।
অ্যামাজনে বই বিক্রি করে আয়
আপনি যদি লেখালেখিতে আগ্রহী হয়ে থাকেন এবং আগে থেকেই আপনার লেখাতে ভালো অভ্যাস
থাকে তাহলে আপনি সেই লেখার অভ্যাসটাকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসে বই পাবলিশ করে ইনকাম
করতে পারবেন। আমরা সবাই জানি আমাজন হচ্ছে ওয়ার্ল্ডের এক নাম্বার ই-কমার্স সাইট
প্রতিদিন লক্ষ কোটি প্রডাক্ট কেনাবেচা হচ্ছে এই amazon থেকে। আর এই অ্যামাজনের অনলাইনে ডিজিটাল বই এর প্ল্যাটফর্মকে বলা হয় amazon kindle পৃথিবীর সব বিখ্যাত,
নতুন, পুরাতন সব ধরনের বই এখানে পাওয়া যায়।
অ্যামাজনে বইসেল করার বিষয়ে এমএসবি একাডেমী ওয়েবসাইটে একটি কমপ্লিট কোর্স রয়েছে যেখানে বই লেখা থেকে শুরু করে নিজের বইয়ের কভার, ডিজাইন, মার্কেটিং, সবকিকছু এই কোর্সের মাধ্যমে শিখানো হয়। প্রয়োজনে আপনি এই কোর্সটি করার মাধ্যমে নিজেকে আরও এক্সপার্ট করে গড়ে তুলতে পারেন এবং বই লিখে ইনকাম শুরু করতে পারেন। নিজের লেখা বই amazon kindle তে কিভাবে পাবলিশ করতে হয় তার সঠিক মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে কিভাবে অ্যামাজনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করবেন তার সম্পূর্ণ জানতে পারবেন কোর্সটি করলে।
অনলাইন সার্ভে থেকে টাকা ইনকাম
অনলাইন সার্ভে করে মোবাইল দিয়ে টাকা উপার্জন করা পেজ সহজ একটি বিষয়।অনলাইন সার্ভে মানে হচ্ছে জরিপ করা । এমন অসংখ্য মার্কেট রিসার্চ কোম্পানি আছে যারা রিচার্জের জন্য সার্ভে করে। আর এই সার্ভেতে যারা অংশগ্রহণ করে তাদের টাকা প্রদান করা হয়। অনলাইন সার্ভে সাধারণ কোম্পানি অথবা ব্যক্তিগত রিসার্চের কারণে নেওয়া হয়। যেমন; মোবাইল কোম্পানি, অনলাইন সুপার শপ এই সব কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের চাহিদা জানার জন্য সার্ভে করে, যাতে করে তারা গ্রাহকদের চাহিদা বুঝে পণ্য তৈরি করে সেল বেশি করতে পারে।
বর্তমানে অনলাইনে এমন অসংখ্য ওয়েবসাইট আছে যারা বিভিন্ন কোম্পানির এসব সার্ভে
এগুলো একসঙ্গে করে এবং তাদের ওয়েবসাইটের রেখে দেই সেই ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন
করা মেম্বাররা পূরণ করে টাকা উপার্জন করতে পারে। তবে, অনলাইনে সার্ভে করার
অনেক ওয়েবসাইট থাকলো সবাই কিন্তু টাকা দেয় না। তাই আপনি যদি সার্ভার করতে
ইচ্ছুক হন তাহলে অবশ্যই আগে আপনি নিশ্চিত হবেন যে তারা টাকা প্রদান করবে কিনা।
ডাটা এন্ট্রি করে টাকা ইনকাম
বর্তমানে মানুষের জীবনে তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাব পড়েছে ব্যাপকভাবে। আর এই ডিজিটাল
যুগের ডাটা বা তথ্যই হচ্ছে একটি ব্যবসার অন্যতম শক্তি। যার কাছে যত বেশি ডাটা সে
তত বেশি ব্যবসায় উন্নতি লাভ করতে পারবে। কম্পিউটারের সফটওয়্যার এর সাহায্যে
কিবোর্ড কিংবা ভয়েসের মাধ্যমে তথ্য ইনপুট দেওয়ার নামই হলো ডাটা এন্ট্রি। ডাটা
এন্ট্রি শিখে আপনি ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
ইন্টারনেট বা ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে অনেক রকম করে ডাটা এন্ট্রি করা যায় যেমন; টাইপিং, ফরম ফিলাপ, অনলাইন সার্ভে, ডাটা এডিটিং, কপি পেস্ট, ক্যাপশন তৈরি, কারেকশন, ওয়েব পেজ কিংবা ই-কমার্স এর ডাটা এন্ট্রি ইত্যাদি। এরকম প্রায় পঞ্চাশ প্রকারের ডাটা এন্ট্রি জব আছে যা আপনি ঘরে বসে অনলাইনে মাধ্যমে করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
উপসংহারঃ ঘরে বসে অনলাইনে ইনকাম করার ১৫টি উপায়
এই পোস্টে আমি অনলাইনে ইনকাম করার ১৫টি উপায় শেয়ার করেছি। এছাড়াও আরো
অনেক উপায় রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি আয় করতে পারবেন। যেমন; পিটিসি,ওয়েব
ডিজাইন,অনলাইন টিউটর , অনুবাদ ইত্যাদি।
সকল মার্কেটপ্লেসে এসব কাজে চাহিদা রয়েছে। যা আপনি ঘরে বসে প্রদান করতে পারবেন।
ঘরে বসে আয় এখন শুধু স্বপ্ন নয় বাস্তবতা । দরকার শুধু দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি
সঠিক উপায় বেছে নেওয়া। তাই দেরি না করে আপনার পছন্দের বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করে
দেন এখনই। আর আয় করুন ঘরে বসে ।
আশা করি আমার আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হবেন। আর আমার আর্টিকেলগুলো ভালো লেগে
থাকলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। এমন আরো আর্টিকেল পড়ার জন্য সাথেই
থাকুন ধন্যবাদ।




মুন্নি ফিল্যান্সারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url